হবিগঞ্জের পৈল গ্রামে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে মা-মেয়ের মানবেতর জীবন
হবিগঞ্জের পৈল গ্রামে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে মা-মেয়ের মানবেতর জীবন
হবিগঞ্জ থেকে শাহ্ মোঃ মামুনুর রহমানঃ
হবিগঞ্জ সদর ৪ নং পৈল ইউনিয়নের বাসিন্দা অসহায় পরিবার মাথার ওপর ভাঙা চালা, রোদ-বৃষ্টি আর ঝড়ের আতঙ্কেই কাটে দিন। দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাড় করাই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই যেন এক দূর আকাশের চাঁদ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৪নং পৈল ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার অসহায় নারী তৃপ্তি ব্রহ্মচারীর কথা।
বর্তমানে একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে অত্যন্ত মানবেতর ও জরাজীর্ণ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায় যে, পৈল পশ্চিম পাড়া এলাকায় তৃপ্তি ব্রহ্মচারীর বসবাসের ঘরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খুঁটিগুলো নড়বড়ে, চালের টিন বা ছন জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙা ঘরে সন্তানকে নিয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন এই অসহায় নারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃপ্তি ব্রহ্মচারীর আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, একটি নতুন ঘর নির্মাণ বা মেরামত করার মতো কোনো সামর্থ্য তার নেই। এমনকি প্রতিদিনের ন্যূনতম পুষ্টি ও দুই বেলা খাবার নিশ্চিত করার মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস বা ব্যবস্থাও তাদের নেই।
প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা কিংবা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে এই মা-মেয়ের। নেই সরকারি বা বেসরকারি বড় কোনো সহায়তা। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করলেও এখন পর্যন্ত তাদের পুনর্বাসন বা স্থায়ী কোনো সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা এবং নিজেদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম তাগিদে একটি টেকসই ঘর এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।ঘরটার যে অবস্থা, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
তুফান বা ভারী বৃষ্টি হলে মা-মেয়ে মিলে কোথায় আশ্রয় নেবে, সেই চিন্তায় আমরাও থাকি। তাদের দুবেলা খাওয়ার কষ্টও খুব বেশি।" একজন স্থানীয় প্রতিবেশী মানবিক সহায়তার আকুল আবেদন তৃপ্তি ব্রহ্মচারী ও তার কন্যাসন্তানের এই মানবেতর জীবনের চিত্র স্থানীয় সচেতন মহলকে ব্যথিত করেছে। তাদের এই চরম অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দিতে এবং একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, ৪নং পৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহায়তার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
একটি নিরাপদ আশ্রয় আর দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তাই এখন এই অসহায় মা-মেয়ের একমাত্র বাঁচার আকুতি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স